অনুসন্ধান

খোঁজা হচ্ছে...

সার্চ করতে টাইপ করে Enter দিন অথবা সার্চ বাটনে ক্লিক করুন।
কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচি এগিয়ে নিচ্ছেন তারেক রহমান

কৃষিবিদ কে আই এফ সবুর

প্রকাশঃ ১৯ই মার্চ ২০২৬, ০৩:০৩ এএম

জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচি এগিয়ে নিচ্ছেন তারেক রহমান
বাংলাদেশের রাজনীতির ক্রান্তিলগ্নে দেশের হাল ধরেন তৎকালীন সেনাপ্রধান, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা, শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। রাষ্ট্রপতি হয়ে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি অনেক উন্নয়ন করেন তিনি। জিয়াউর রহমানের করা উন্নয়ন পদক্ষেপের মধ্যে ‘খাল খনন কর্মসূচি’ আলাদা জায়গা করে নিয়েছে। গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষি পুনরুজ্জীবনের উদ্দেশ্যে নেওয়া এ কর্মসূচিকে জিয়াউর রহমানের ‘ট্রেডমার্ক’ উন্নয়ন কর্মসূচি হিসেবে অভিহিত করেন দেশ-বিদেশের অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক, কৃষিবিদ, অর্থনীতিবিদরা।

১৯৭৯ সালে জিয়াউর রহমান খাল খনন কর্মসূচি চালু করেছিলেন। এ কর্মসূচির লক্ষ্য ছিল বর্ষাকালে খালগুলোতে বৃষ্টির পানি ধরে রেখে গ্রীষ্মে তা কৃষি কাজে তথা সেচের জন্য ব্যবহার করা। এর ফলে দেশ যাতে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়, সেটিই ছিল জিয়াউর রহমানের প্রধান লক্ষ্য। নদী-খাল-বিলের প্রাকৃতিক জলপ্রবাহ পুনরুদ্ধারও এ কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য ছিল। তবে খাল খনন কর্মসূচির আরেকটি বড় লক্ষ্য ছিল গ্রামীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি। কেননা এ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়েছিল কাজের বিনিময়ে খাদ্যের (কাবিখা) মাধ্যমে। এর ফলে যে এলাকায় খাল খনন করা হয়েছিল, সেই এলাকাগুলোর দরিদ্র জনগোষ্ঠী এ কর্মসূচিতে কাজের সুযোগ পেয়েছিলেন, করতে পেরেছিলেন উপার্জন।

জিয়াউর রহমানের শাসনামলে ১৯৭৯ সাল থেকে ১৯৮১ সালের মে মাস পর্যন্ত সারাদেশে দেড় হাজারের বেশি খাল খনন, পুনঃখনন করা হয়। খনন, পুনঃখনন করা এ খালসমূহেরে দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ২৬ হাজার কিলোমিটার।

জিয়াউর রহমানের নেওয়া খাল খনন কর্মসূচির ফলে দেশের বহু এলাকায় সেচের আওতা বৃদ্ধি পায়। আর এর ফলে ফসলের ফলন বৃদ্ধি হয়। বর্ষাকালে অনেক এলাকা রক্ষা পায় জলাবদ্ধতার হাত থেকে। খাল খননের ফলে নৌযান চলাচলের পথ বৃদ্ধি পায়, এ ছাড়া বৃদ্ধি পায় মাছের আবাসস্থলও। তবে এ কর্মসূচির ফলে আরও উল্লেখযোগ্য যে সুফল আসে তা হলো, মানুষের মধ্যে পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি পায়।

দীর্ঘ ৪৫ বছর পর জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় চালু করলেন তার ছেলে, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার দল বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করতে চান বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি। গতকাল সোমবার থেকে এ কর্মসূচির উদ্ধোধন করেছেন তিনি। কোদাল দিয়ে নিজ হাতে কোপ দিয়ে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার সাহাপাড়া খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্ধোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

পরে স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত সমাবেশে খাল খননের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ‘দেশের অনেক খাল ও নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় বর্ষার সময় পানি ধরে রাখা যায় না। ফলে একদিকে বন্যার সময় হঠাৎ করে উজান থেকে আসা পানি মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, অন্যদিকে শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকটে কৃষিকাজ ব্যাহত হয়। খাল খননের মাধ্যমে বর্ষার অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে এবং তা কৃষিকাজে ব্যবহার করা যাবে।’

তিনি বলেন, সারা দেশে পর্যায়ক্রমে বড় পরিসরে খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে পানি সংরক্ষণ, সেচব্যবস্থা উন্নয়ন এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি সম্ভব হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মানুষের উপকার করা এবং তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটানোই বিএনপির রাজনীতির মূল লক্ষ্য। কৃষক ভালো থাকলে দেশের মানুষ ভালো থাকবে এ বিশ্বাস থেকেই কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়নে নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আমরা কৃষিকে শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে চাই।’

নির্বাচনের আগে খাল খনন কর্মসূচির রূপরেখা তুলে ধরেছিলেন তারেক রহমান। গত ২০ জানুয়ারি নিজ সংসদীয় আসনের (ঢাকা-১৭) বনানীর চেয়ারম্যান বাড়ি মাঠে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত দোয়া মাহফিল ও মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, ‘আমরা সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটারের মতো খাল খনন করতে চাই। আমার বাবা যখন বেঁচে ছিলেন, শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, উনার একটি প্রজেক্ট (প্রকল্প) ছিল, যেটার জন্য উনি খুব ফেমাস (বিখ্যাত), খাল খনন কর্মসূচি।’

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘ঢাকা শহরে আমরা যারা বসবাস করি, তারা হয়তো ব্যাপারটা অতটা বুঝি না, কিন্তু যারা গ্রামে বসবাস করেন, জেলা-উপজেলায় বসবাস করেন, তাদের কাছে এই জিনিসটা অত্যন্ত গুরুতআবপূর্ণ। তবে আমার মনে হয়, বিগত কয়েক বছরে, ১০-১৫ বছরে এখন ঢাকা শহরে আমরা যারা বসবাস করি, ঢাকা শহরের যারা অধিবাসী আমরা, তারাও বোধ হয় খাল খননের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছি। কারণ, ঢাকা শহরে খালগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ার ফলে কী সমস্যা হচ্ছে এটা আমরা ঢাকা শহরে তিন কোটি মানুষ বসবাস করছি, প্রত্যেকেই কোনো না কোনোভাবে পেইনটা (যন্ত্রণাটা) আমরা বুঝতে পারছি।’

তিনি বলেন, ‘তাই সম্মানিত উপস্থিতিবৃদ্ধ ‘‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’-এর একটি অংশ হচ্ছে যে আমরা আগামী ১২ তারিখের যে নির্বাচন, এই নির্বাচনে ইনশাল্লাহ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সরকার গঠনে সক্ষম হলে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে, আমরা সমগ্র বাংলাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটারের খাল আমরা খনন করতে চাই।’

শুধু গ্রামীণ নয়, শহুরে খালও খনন, পুনঃখননের ঘোষণাও দেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘অবশ্যই এর মধ্যে (খাল খনন কর্মসূচি), এখানো আপনারা আজকে যারা উপস্থিত আছেন, আপনারা এই ১৭ আসনের ভোটার, আপনাদের সামনে আমি দাঁড়িয়েছি। এখানে বক্তারা কম-বেশি সবাই বলে গিয়েছেন আমি একটি দল থেকেই এ অঞ্চলের প্রার্থী হয়েছি। আমি আপনাদের ভোটে নির্বাচিত হলে ডেফিনেন্টলি এখানে যে খালগুলো আছে সেগুলোর ব্যাপারেও আমরা ব্যবস্থা নেব।’

এখন কথা হলো খাল খননের যে কর্মসূচি তারেক রহমান গ্রহণ করলেন, তা কতটা যুগোপযোগী। যেসব বাস্তবতায় জিয়াউর রহমানের আমলে খাল খনন, পুনঃখননের প্রয়োজন ছিল, বর্তমান বাস্তবতায় তা আরও বেশি প্রয়োজন। দেশে নানা কারণে বিভিন্ন নদী, খাল, পুকুর তথা জলাশয় ভরাট করা হয়েছে। জলাশয়ে পানি না থাকায় সেচের সময় সংকটে ভোগেন কৃষকরা। অনেক এলাকার ভূগর্ভস্ত পানির স্তর এটতাই নিচে নেমে গেছে যে সেচপাম্প দিয়েও পানি তুলতে পারেন না তারা। আর এর কারণও সেই জলাশয় ভরাট তথা স্থানীয় পানির সংরক্ষণের অভাব। আবার জলাশয় ভরাটের কারণে হারিয়ে গেছে অনেক প্রজাতির দেশীয় মাছ। তাই খাল খনন, পুনঃখননের কঠিন বাস্তবতার মুখে দেশ। দেশের মানুষের রায় পেয়ে খাল খনন, পুনঃখননের কর্মসূচি বাস্তবায়নে সেই কাজটি শুরু করেছেন তারেক রহমান।

লেখক: সহসম্পাদক, কৃষকদল কেন্দ্রীয় সংসদ
Bartabuzz Logo

খবরের নতুন ধারা

স্বত্ব © 2026 বার্তাবাজ

  ||  

সম্পাদক ও প্রকাশক: নাজমুল হাসান