অনুসন্ধান

খোঁজা হচ্ছে...

সার্চ করতে টাইপ করে Enter দিন অথবা সার্চ বাটনে ক্লিক করুন।
কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

যুবদলকর্মী ইউসূফ হত্যার মাস্টার মাইন্ড জনি: টার্গিট ছিল বাবু, খুন হলো ইউসূফ

বার্তাবাজ ডেস্ক

প্রকাশঃ ২১ই আগস্ট ২০২৬, ০৩:২০ পিএম

যুবদলকর্মী ইউসূফ হত্যার মাস্টার মাইন্ড জনি: টার্গিট ছিল বাবু, খুন হলো ইউসূফ

কাফরুলে যুবদলকর্মী মো. ইউসুফ হত্যাকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। তবে ইউসুফ নয়, অভিযুক্ত কাফরুল থানা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক সাব্বির দেওয়ান জনির মূল টার্গেট ছিলেন কাফরুল থানা যুবদলের সদস্য সচিব ও আসন্ন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) নির্বাচনের কাউন্সিলর প্রার্থী হাফিজুল ইসলাম বাবু।

অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, কাফরুল থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব হাফিজ উদ্দিন হাফিজ ওরফে সিএনজি হাফিজকে ভারতে পালিয়ে যেতে সহযোগীতা করেছেন সাব্বির দেওয়ান জনি।জনিকে গ্রেফতার করলেই এ হত্যাকাণ্ডের রহস্যজট বেরিয়ে আসবে বলে মনে করেন ইউসূফের আত্মীয়স্বজন ও এলাকাবাসী।

জানা যায়, নির্বাচন কেন্দ্রিক দ্বন্দ্বের জেরে বাবুর আগেও জনির রোষের শিকার হয়েছেন আরেকজন কাউন্সিলর প্রার্থী। ডিএনসিসি নির্বাচনে ৪ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী হওয়ায় গত ৯ জুন হামলার শিকার হন কাফরুল থানা বিএনপির ৪ নম্বর ওয়ার্ড ইউনিটের সিনিয়র সহসভাপতি হাজী ছাইফুল ইসলাম। ২৪ জুলাই একই ওয়ার্ডের প্রার্থী হাফিজুল ইসলাম বাবুকেও ভাড়াটে খুনির মাধ্যমে হত্যার চেষ্টা চালান জনি।

হাফিজুল ইসলাম বাবু বলেন, আসন্ন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) প্রার্থী হওয়ার ঘোষণাই আমার জীবনে কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রার্থিতা ঘোষণার পরপরই আমি সাব্বির দেওয়ান জনির রোষানলে পড়ে যাই। শুধু আমি নই, বিএনপি নেতা হাজী ছাইফুল ইসলামও নির্বাচনী দ্বন্দ্বে জনির রোষানলে পড়েছিলেন।

বাবুর দাবি, সাব্বির দেওয়ান জনির টার্গেট শুধু ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থীরা। আমাদের পরও যারাই এই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেবে, তাদের ওপরও হামলা হবে। জনি এই ওয়ার্ডে অন্য কাউকে প্রার্থী হতে দেবে না।

স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, হাজী ছাইফুলের সঙ্গে জনির দ্বন্দ্ব আরও পুরনো। ২০২০ সালে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত কাউন্সিলর প্রার্থী ছিলেন হাজী ছাইফুল। সেই নির্বাচনে সাব্বির দেওয়ান জনি স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন। সেই নির্বাচনে প্রার্থিতা তুলে নেওয়ার কথা বলে হাজী ছাইফুলের কাছ থেকে ১১ লাখ টাকা নেয় জনি, কিন্তু প্রার্থিতা তুলে না নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেন। পরবর্তীতে তাদের দ্বন্দ্ব আরও বাড়ে। এরই জেরে জনি যখন জানতে পারেন এবারের নির্বাচনেও হাজী ছাইফুল প্রার্থী হয়েছেন, তখন তিনি ছাইফুলের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালান।

হাজী ছাইফুল ইসলামের ছোট ভাই ওবায়দুল ইসলাম বলেন, আমার বাবা হাজী আলী হোসেন ছিলেন এলাকার সম্মানিত ব্যাক্তি। তার নামে এলাকায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। আমার বড় ভাই হাজী রফিকুল ইসলাম এই ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নির্বাচিত কাউন্সিলর ছিলেন। আমার আরেক ভাই হাজী ছাইফুল ২০২০ সালে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন।

তিনি আরও জানান, আগামী নির্বাচনেও প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন হাজী ছাইফুল ইসলাম। এ কারণে গত ৯ জুন তাকে হত্যার চেষ্টা চালায় জনির সন্ত্রাসী বাহিনী। আমি নিজেও সেই হামলার শিকার হয়েছি। ওই ঘটনায় কাফরুল থানায় একটি জিডি করা হয়েছে। মূলত একই ওয়ার্ডের প্রার্থী হওয়ায় ছাইফুলের ওপর হামলা চালায় জনি, দাবি ওবায়দুলের।

অভিযোগের বিষয়ে সাব্বির দেওয়ান জনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে করা সব অভিযোগ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমি যদি অপরাধী হতাম এলাকায় থাকতাম না, পালিয়ে থাকতাম। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে আসল খুনিদের শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, সেদিনের ঘটনায় আমি হাজী ছাইফুলকে ফোন করি। কিন্তু তিনি ফোন ধরেননি। এ কারণে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করি। তাদের সঙ্গে আমার বাক্‌বিতণ্ডা হয়েছে কিন্তু আমি কোনো হামলা করিনি।

প্রসঙ্গত, গত ২৪ জুলাই রাতে মিরপুর ১৩ নম্বরের বয়রাপট্টি এলাকায় সশস্ত্র সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন কাফরুল থানা যুবদলের সদস্য সচিব হাফিজুল ইসলাম বাবু। ওই ঘটনায় নিহত হন যুবদলকর্মী ইউসুফ। আহত হন স্থানীয় দুইজন। পরবর্তীতে হামলার ঘটনায় মামলা হয় এবং জড়িত বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

এদিকে, ওই ঘটনায় কাফরুল থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব হাফিজ উদ্দিন হাফিজ ওরফে সিএনজি হাফিজের জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া যায়। তবে ঘটনার পর থেকেই তিনি উধাও। এই হাফিজসহ বিএনপিতে অনুপ্রবেশকারী বেশকিছু সন্ত্রাসীকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সাব্বির দেওয়ান জনির বিরুদ্ধে।

নির্বাচনী দ্বন্দ্বের জেরে সিএনজি হাফিজের মাধ্যমে খুনি ভাড়া করে জনিই হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী হাফিজুল ইসলাম বাবু। এই হামলার পেছনের মাস্টারমাইন্ড, পরিকল্পনাকারী ও অর্থদাতাসহ জড়িতদের খুঁজে বের করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

হাফিজুল ইসলাম বাবুর ওপর হামলার প্রতিবাদ ও ইউসুফ হত্যার বিচারের দাবিতে মিছিল করেছে কাফরুল থানা যুবদলের নেতাকর্মী ও স্থানীয় জনগণ। শুক্রবার (১ আগস্ট) রাজধানীর মিরপুর-১৩ নম্বরে হামলাকারীদের শাস্তির দাবিতে বিশাল এ মিছিল হয়।

যুবদলকর্মী ইউসুফ হত্যা মামলা প্রসঙ্গে ডিএমপির মিরপুর জোনের উপ-কমিশনার (ডিসি) মোস্তাক সরকার বলেন, মামলাটি এখনো ডিবি কর্তৃক তদন্তাধীন। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করা যাবে না।

এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের এসআই রায়হান জানান, ইউসুফ হত্যায় দুটি মামলা হয়েছে, একটি হত্যা মামলা যেটা ডিবি তদন্ত করছে, অন্যটি অস্ত্র মামলা যা কাফরুল থানা পুলিশ তদন্ত করছে। অন্য একটি প্রশ্নের জবাবে বলেন, হাজারও মানুষের দাবি হাজার রকম হতে পারে। তাই বলে সকলের দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করতে হবে বা সকলের দাবি সমর্থনযোগ্য বক্তব্য দিতে হবে ব্যপারটা এমন না। আপনি দাবি করতেই পারেন বিষয়টা, কিন্তু সঠিক তদন্তের মাধ্যমে মূল আসামি শনাক্ত করা হবে।

কাফরুল থানার ওসি ছাইফুল ইসলাম জানান, ইউসুফ হত্যাকাণ্ডে হওয়া অস্ত্র মামলায় চঞ্চলকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। প্রথম দফা রিমান্ডে তিনি অসংলগ্ন কথা বলেছেন। এ কারণে আমরা অস্ত্রের কোনো তথ্য পাইনি। দ্বিতীয় দফায় তথ্যের জন্য আদালতের কাছে রিমান্ড আবেদন করা হবে।

Bartabuzz Logo

খবরের নতুন ধারা

স্বত্ব © 2026 বার্তাবাজ

  ||  

সম্পাদক ও প্রকাশক: নাজমুল হাসান