অনুসন্ধান

খোঁজা হচ্ছে...

সার্চ করতে টাইপ করে Enter দিন অথবা সার্চ বাটনে ক্লিক করুন।
কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

পাঠ্যপুস্তক ঘিরে আবারও সক্রিয় সিন্ডিকেট

বার্তাবাজ ডেস্ক

প্রকাশঃ ১৭ই মার্চ ২০২৬, ১১:২৫ পিএম

পাঠ্যপুস্তক ঘিরে আবারও সক্রিয় সিন্ডিকেট
পাঠ্যপুস্তক ছাপা থেকে শুরু করে নানা কাজে এখনো সক্রিয় সিন্ডিকেট। কোনভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম। অর্ন্তবর্তী সরকারের আমলেও সরকারের ও আওয়ামী লীগ সরকারের লোকজনের সমন্বয়ে সিন্ডিকেট পরিচালিত হতো। সিন্ডিকেটের সদস্যরা অবৈধভাবে হাতিয়ে নিয়েছে শত শত কোটি। যার ভাগ গেছে বিগত সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কাছেও। নতুন শিক্ষা মন্ত্রী ড. এহছানুল হক মিলন সিন্ডিকেট ভেঙ্গে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তারই ধারাবাহিকতায় দূর্নীতি দমন কমিশন বেশ কয়েকবার অভিযান চালিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে (এনসিটিবি)। 

গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, অর্ন্তবর্তী সরকার ক্ষমতা নেওয়ার পর সকল স্তরে সংস্কার করার উদ্যোগ নেয়। কিন্তু এনসিটিবিতে তেমন কোন সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। উপরন্ত সরকারের কিছু ব্যক্তি, এনসিটিবির কিছু অসাধু দায়িত্বশীল কর্মকর্তা আর আওয়ামী লীগ সরকারের লোকজন সম্মিলিতভাবে সিন্ডিকেট করে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে রাষ্ট্রের। সিন্ডিকেটের অন্যতম নেতৃত্বে ছিলেন আনন্দ প্রিন্টার্স লিমিটেডের মালিক রাব্বানী জব্বার। রাব্বানী জব্বারের সহোদর বড় ভাই মোস্তফা জব্বার। মোস্তফা জব্বার শেখ হাসিনা সরকারের চতুর্থ মন্ত্রী সভার সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী ছিলেন। রাব্বাবী জব্বার আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নেত্রকোণা জেলার খালিয়াজুরী উপজেলা পরিষদের উপনির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কিবরিয়া জব্বারের মৃত্যুর পর রাব্বানী জব্বার চেয়ারম্যান হন। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের  পর পরই রাব্বানী জব্বার আত্মগোপনে চলে যান। আত্মগোপনে থেকেই তিনি পুরো সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করতেন। সিন্ডিকেট করে হাতিয়ে নেওয়া শত শত কোটি টাকার ভাগ যেতো অর্ন্তবর্তী সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও এনসিটিবির দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের কাছেও।  

এ ব্যাপারে রাব্বানী জব্বারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে বার বার যোগাযোগ করেও সিন্ডিকেটের বিষয়ে তার  কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তিনি ফোন ধরেন না। তবে তার অফিসের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, রাব্বানী জব্বার বর্তমানে আত্মগোপনে আছেন। তবে তার সিন্ডিকেট ব্যবসা বহাল আছে। 

রাব্বানী জব্বারকে সার্বিকভাবে সহযোগীতা করতেন অগ্রণী প্রিন্টিং প্রেসের মালিক হাজী রুবেল। হাজী রুবেলের সঙ্গেও যোগাযোগ করলে তিনি ফোন ধরেন না। তার অফিসের অন্যান্য কর্মকর্তারা জানান, তিনি অফিসে নেই,বলে বাইরে আছেন। 
সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন শিক্ষাকেন্দ্রিক সকল সিন্ডিকেট ভেঙ্গে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এনসিটিবিকে সিন্ডিকেট মুক্ত করতে নানাভাবে কাজ চলছে। সম্প্রতি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও দূর্নীতি দমন কমিশন এনসিটিবির উপর নজরদারি বাড়িয়েছে। সম্প্রতি দুদক প্রায়ই এনসিটিবিতে নানা অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে অভিযান পরিচালনা করছে। সিন্ডিকেট ভেঙ্গে দেওয়ার ধারাবাহিকতায় ভর্তির ক্ষেত্রে লটারী প্রথা বাতিল করা হয়েছে। পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের ভর্তির বিষয়ে বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে। এতে করে সত্যিকারের মেধাবীরা অনেক বেশী সুযোগ পাবে। সুবিধাবঞ্চিত ও আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল অনেক পরিবারের জন্য সুবিধা হবে। 

গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, গত বছর বিনামূল্যের পাঠ্যবই ছাপানোর কাজ নিয়ন্ত্রিত হয়েছে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে। সর্বনিম্ন দরদাতা হয়ে ছাপাকাজ বাগিয়ে নেওয়া, কাগজের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানো, আর্টকার্ড জালিয়াতির মাধ্যমে বেশী টাকা হাতিয়ে নেওয়াসহ বহু অপকর্মের সঙ্গে জড়িত সিন্ডিকেট। সিন্ডিকেটটি টেন্ডার থেকে শুরু করে যাবতীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ করতো। এমনকি কোন প্রেস কোন কোন কাজ পাবে, কাগজের কোন ব্যবসায়ী কি পরিমাণ কাগজ বিক্রির অনুমোদন পাবেন, তাও নিয়ন্ত্রণ করতো সিন্ডিকেট। সিন্ডিকেট সদস্যরা অতিরিক্ত ২০ থেকে ২৫ শতাংশ হারে দরপত্র দাখিল করে সরকারের নির্ধারিত বাজেটের অতিরিক্ত ৬৫৮ কোটি ৮৫ লাখ ২৯ হাজার ৬৬৫ টাকার বেশি হাতিয়ে নিয়েছে। সেই টাকার ভাগ গেছে অর্ন্তবর্তী সরকারের সংশ্লিষ্ট অনেক কর্মকর্তা ছাড়াও এনসিটিবির কতিপয় অসাধু কর্মকর্তাদের কাছে। গত বছর প্রাক-প্রাথমিক থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ৪০ কোটি ১৫ লাখ ৬৭ হাজার ২০২টি বই মুদ্রণ করে সরকার। এর জন্য ব্যয় হয় ২ হাজার ৭৬২ কোটি ৮ লাখ ৯১ হাজার ১৪৪ টাকা।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, কর্ণফুলী আর্ট প্রেস, লেটার এন কালার, এ্যাপেক্স প্রিন্টিং অ্যান্ড কালার, সরকার প্রিন্টিং অ্যান্ড পাবলিশিং, অগ্রণী প্রিন্টিং প্রেস, আনন্দ প্রিন্টার্স লিমিটেড, কচুয়া প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন্স, সীমান্ত প্রিন্টিং প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন, প্রমা প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন্স ও ব্রাইট প্রিন্টিং প্রেস সিন্ডিকেট সদস্য। ছাপার কাজ বাগিয়ে নেওয়ার পর তা নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নিয়েছে। 

গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, দেশে বর্তমানে ১১৯টি নিবন্ধিত পেপার মিল আছে। এর মধ্যে এনসিটিবির স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী সরবরাহের সামর্থ্য থাকা প্রেসগুলো কাজ পায়নি। ছোট ছোট প্রেসগুলোকে টাকার বিনিময়ে কাজ দেওয়া হয়েছে। সেখানে নিম্নমানের কাগজ দিয়ে বই ছাপা হয়েছে। আর ছাপার আগের কাগজ কিনে গোপন গুদামে মজুদ করা হয় কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানোর জন্য। এভাবেও সিন্ডিকেট শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। কাগজ মজুদ সিন্ডিকেটে আছেন মিন্টু মোল্লা, শেখ সিরাজ, দুলাল সরকার, ওমর ফারুক, মহসিন, রুবেল-রবিন, রাব্বানী জব্বার ও দেওয়ান কবির। একইভাবে বিদেশ থেকে আর্ট পেপার কিনে বেআইনীভাবে মজুদ করা হয়। এখানেও সিন্ডিকেট করে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে শত শত কোটি টাকা। কাগজের কৃত্রিম সংকট তৈরির সঙ্গে জড়িত মল্লিক পেপার মিল, ক্যাপিটাল পেপার মিল, আজাদ পেপার মিল। এসব সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে সরকার প্রেসের মালিক ওমর ফারুক। রশিদ পেপার মিল পরিচালনা করেন অটো প্রিন্টিং প্রেস ও মোল্লা প্রিন্টিং প্রেসের মালিক মিন্টু মোল্লা। এছাড়া মাস্টার সিমেক্স পেপার লিমিটেডের দেওয়ান কবির, ইউনিয়ন অ্যাসোসিয়েট, রহমত এন্টারপ্রাইজ, নয়াবাজারের ইউসুফ এন্টারপ্রাইজ, সরকার প্রেসের ওমর ফারুক, প্রেস মালিক তোফায়েল, দশ দিশা প্রিন্টার্সের আমিন হিলালী, রাফিন এন্টারপ্রাইজসহ অনেকেই কাগজ সিন্ডিকেটে জড়িত। 


Bartabuzz Logo

খবরের নতুন ধারা

স্বত্ব © 2026 বার্তাবাজ

  ||  

সম্পাদক ও প্রকাশক: নাজমুল হাসান